NEWS & ARTICLES

HOME // BLOG POST DETAILS
দেশে প্রতিবছর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে ৯১ হাজার রোগী

সেন্টার ফর ক্যান্সার প্রিভেনশন এন্ড রিসার্চ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিশিষ্ট চিকিৎসকরা দাবি করেছেন, দেশে প্রতি বছর ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং ৯১ হাজার ক্যান্সার রোগী প্রতি বছর মৃত্যুবরণ করেন। এ চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা এখনও অপ্রতুল। যারা চিকিৎসার জন্য আসে তাদের বেশির ভাগই শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে শরণাপন্ন হয়। তখন চিকিৎসায় ভালো ফল আশা করার সুযোগ থাকে না।

গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মোঃ হাবিবুল্লাহ তালুকদার, একই হাসপাতালের গাইনী অনকোলজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আফরোজা খানম, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেডিওথেরাপী বিভাগ সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ খোরশেদ আলম, ডাঃ মোঃ জিল্লুর রহমান, ডাঃ মোঃ হাসানুজ্জামান, কবি কাজী রোজি, সংগঠনের গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীর মোট সংখ্যা কত তার নিজস্ব পরিসংখ্যান না থাকলেও ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) এর হিসাব অনুযায়ী মোট ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা প্রায়১২ থেকে ১৪ লাখ ।

তারা জানান, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রধান প্রধান ক্যান্সারগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুসফুস, স্তন, জরায়ু মুখ, খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর ক্যান্সার। মহিলাদের মধ্যে প্রথম হচ্ছে স্তন ক্যান্সার, জরায়ু মুখের ক্যান্সার দ্বিতীয় স্থানে। পুরুষদের মধ্যে প্রথম হচ্ছে ফুসফুস, দ্বিতীয়ত খাদ্যনালীর স্থান। শিশুদের মধ্যে লিমফোমা বা লসিকা গ্রন্থির ক্যান্সার, চোখের ক্যান্সার ও ব্লাড ক্যান্সার প্রধান। বয়স্ক মানুষদের মধ্যে প্রধান ক্যান্সারগুলোর মধ্যে ফুসফুস, খাদ্যনালী ও জরায়ু মুখের ক্যান্সার।

চিকিৎসকরা জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার সংকট রয়েছে। অথচ প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে অল্প চিকিৎসাতে সুস্থ হওয়া সম্ভব। এতে রোগীর যেমন আর্থিক এবং শারীরিকভাবে উপকৃত হবেন তেমনি বর্তমানে বিরাজমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ কমবে ফলে মানসম্মত চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হবে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা কিছু বিষয়ের উপর জোর দিতে চাই।

তারা জানান, রোগের শুরুতে ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যান্সার রোগীর সুস্থ হওয়া সম্ভব। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ক্যান্সার নির্ণয় সুবিধা বিকেন্দ্রীকরণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সহজলভ্য করতে হবে। এর জন্য বিশাল অবকাঠামো কিংবা বিশাল বাজেটের প্রয়োজন নেই। স্তন, জরায়ু মুখ ও মুখগহবরের ক্যান্সার স্ক্রিনিং পদ্ধতি সহজেই চালু করা সম্ভব।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ক্যান্সার রোগ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে এই ব্যয়ভার বহন করা দুরূহ বিধায় অনেকেই চিকিৎসা নিতে সাহস পান না। তারা বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারী খাতে গরীব রোগীদের বিনামূল্যে ও স্বল্প খরচে চিকিৎসার সুযোগ আরো বাড়াতে হবে। বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার ব্যয় কমানোর ব্যপারে উদ্যোগ নিতে হবে। যেহেতু সরকার বিনা শুল্কে মেডিকেল যন্ত্রপাতির আমদানির সুযোগ দিয়েছে তাই প্রতিটি বেসরকারী হাসপাতালে শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে গরীব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে

এদিকে ক্যান্সার সচেতনার সড়কযাত্রা ও কমিউনিটি অনকোলজি নেটওয়াক-সিসিপিআর ও সহযোগী সংগঠনসমূহের আগামী শুক্র ও শনিবার ৭টি বিভাগে কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

 

Source: http://bit.ly/dailysangram-post-137790

Utpal Paul

Email Me

COMMENT (0)

Copyright © 2019 GOSB. All Rights Reserved.
Design & Developed By in collaboration with Incepta.